ঢাকঢোলের শব্দ নেই বললেই চলে। তবু কারখানা আর কর্মশালার গায়ে গাঢ় রঙের ছাট। মেশিনের গায়ে গাঁদা ফুলের মালা। বছরের একটা দিন যন্ত্রকে সাজানো হয়, প্রণাম করা হয়। ওই দিনটাই বিশ্বকর্মা পুজো। ২০২৬ সালে কবে পড়েছে, সেটাই এবার জানিয়ে দিই। জেনে নিন খুঁটিনাটি।
কালি, কয়লা, মিস্ত্রি, মোটর মিস্ত্রি, শিল্পী, শ্রমিক, প্রায় সব কারিগরি কর্মীই দিনটা মানেন। যন্ত্র আর হাতিয়ারকে দেবতার আসনে বসিয়ে পুজো করা হয়। কলকাতা, হাওড়া, হুগলির শিল্পাঞ্চলে এই দিনটা চলে খুব ধুমধামে। সিলাই মিস্ত্রি থেকে মোটর মিস্ত্রি, সবাই নিজের হাতিয়ারকে প্রণাম করেন। মজার ব্যাপার, এ রকম আর কোথাও নেই।
বিশ্বকর্মা পুজো ২০২৬ কবে পড়েছে?
এবারের বিশ্বকর্মা পুজো ১৭ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার। বাংলা মাসের হিসেবে সেটা ৩১ ভাদ্র, শুভ বেলা।
তিথির হিসেবে এবার পড়ছে ভাদ্র কৃষ্ণপক্ষ একাদশী। পঞ্জিকা মতে একাদশী তিথি সেইদিন রাত প্রায় ১টা ২৩ মিনিট পর্যন্ত থাকবে। দিনটা তাই কারখানা আর কর্মশালায় যন্ত্রপুজোর জন্য নির্ধারিত। তিথি মানেই হিসাবের খেলা।
তাহলে কী, দুটো দিন পুজো করা যাবে? উত্তরটা একবারেই স্পষ্ট নয়। কারণ, নানা পঞ্জিকায় তারিখ নিয়ে মতভেদ আছে। কোথাও ১৭ সেপ্টেম্বর, কোথাও ১৮ সেপ্টেম্বর বলা হচ্ছে। শুনলে অবাক হবেন।
তৎপরই আলাদা হিসাবে দিন বদলায়। ৩১ ভাদ্র কবে পড়েছে, সেটা নিয়ে হিসাব আলাদা। যে পঞ্জিকা মানা হয়, অঞ্চলভেদে সেই হিসাবে দিন বেছে নেওয়াই ভালো। পশ্চিমবঙ্গের বেশিরভাগ জায়গায় অবশ্য ১৭ সেপ্টেম্বরই মানা হচ্ছে। আস্থাটা যে পঞ্জিকায়, সেই মিলিয়েই চলুন।
কেন পালিত হয় বিশ্বকর্মা পুজো?
পুরাণমতে বিশ্বকর্মা হলেন দিব্য শিল্পী, দেবতাদের স্থপতি। দেবলোকের যাবতীয় অস্ত্র আর যন্ত্র, কুরুক্ষেত্রের রথ, সবই নাকি তাঁর সৃষ্টি। দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার কথা বিস্তারিত উইকিপিডিয়ার বাংলা পাতায় পড়তে পারবেন।
যাঁরা যন্ত্রে, হাতিয়ারে কাজ করেন, তাঁরা বিশ্বকর্মাকে নিজেদের দেবতা বলে মানেন। মিস্ত্রি, কামার, ছুতোর, মোটর মিস্ত্রি, এমনকী পড়ুয়ারাও বই, কলম, কম্পিউটার সাজিয়ে পুজো করেন। কারুর আবার দিনভর সকলের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া। কারুর শুধু মনটাই। যন্ত্রের প্রতি কৃতজ্ঞতাই এই পুজোর মূল কথা। সত্যি কথা।
ছোট কর্মশালায় সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বেলে মিষ্টি বিতরণেই দিন শেষ। বড় কারখানায় আবার ঢাকঢোল আর সানাই। নিয়মের থেকে বেশি দরকার ভক্তি আর পরিচ্ছন্নতা। ক্লান্তি মাফ হয়, দায়ও নিমেষে হালকা হয়। কথাটা পুরনো হলেও ভুল নয়।

পুজোর প্রস্তুতি ও সাজতে কী কী লাগে?
পুজোর আগের দিনই মেশিন, গাড়ি, যন্ত্র ভালো করে ধুয়ে মুছে সবুজ পাতায় সাজিয়ে নেওয়া হয়। হলুদ আর আলতার ছাঁট থাকে সবার গায়ে। পুজোর দিন ময়দানের বিছানায় বসানো হয় দেবতাকে।
বিশ্বকর্মা পুজোয় সাধারণত কলা পাতায় ভোগ আর নারকেল ভাঙা হয়। এর সঙ্গে ধূপ, প্রদীপ, গন্ধ, ফুল, অক্ষত মিলিয়ে চলে আরতি। উপকরণের তালিকাটা আসলে বড় নয়। কলা, নারকেল, গাঁদা ফুল, ধূপকাঠি, সিঁদুর, হলুদ, তুলসিপাতা, যথেষ্ট। আর কী বলবেন!
এসব সংগ্রহ করলেই সকাল থেকে পুজোটা গুছিয়ে নেওয়া যায়। খিচুড়ি আর পায়েস ভোগ হিসেবে রান্না হয়।
উপসংহার
বিশ্বকর্মা পুজোয় ১৭ সেপ্টেম্বর যন্ত্র আর কারিগরির আরাধনার দিন। অঞ্চলের রীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুজো করলেই বছর শুভ হবে। আরও পড়ুন আমাদের দুর্গাপুজো ২০২৬ তারিখের তালিকা আর জন্মাষ্টমীর নিশিতা পুজোর সময়।








