বাঙালির খাওয়াদাওয়ার শেষ পর্ব মিষ্টি ছাড়া জমে না। আর সেই তালিকায় সবার আগে নাম আসে মিষ্টি দইয়ের। দোকানের হাঁড়ির সেই ক্রিমি, লালচে মিষ্টি দইয়ের স্বাদ সবারই প্রিয়।
সবাই ভাবেন, মিষ্টি দই মানেই তো দোকানের ব্যাপার। বাড়িতে বানালে হয়তো জমবে না, নয়তো টক হয়ে যাবে। জ্বী, ঠিক উল্টোটা। একটু কৌশল জানা থাকলে ঘরের রান্নাঘরেই দিব্যি ফোটে সেই স্বাদ।
মিষ্টি দই বানাতে যা যা লাগবে
উপকরণের তালিকা মোটেও লম্বা নয়। রান্নাঘরে যা আছে, তা দিয়েই চলে। আসল যাদু কিন্তু কারামেল চিনির ভিতরে।
- ১ লিটার গোটা দুধ
- ১ কাপ ঘরের টক দই
- আধ কাপ চিনি
- ২ টেবিল চামচ দুধের গুঁড়ো (ঐচ্ছিক)
- ১ চা চামচ এলাচ গুঁড়ো (ঐচ্ছিক)
মনে রাখবেন, টক দইটা ঘরের তৈরি হলে দই তাড়াতাড়ি জমে। বাজারের টক দইতেও চলে, তবে সময় লাগে একটু বেশি।

ধাপে ধাপে মিষ্টি দই বানানোর পদ্ধতি
প্রথম ধাপ: দুধ ঘন করে নিন
গভীর পাত্রে দুধ গরম করতে বসান। ফুটে উঠলে আঁচ কমিয়ে আধ ঘণ্টা জ্বাল দিন। দুধটা যত ঘন হবে, দই তত ক্রিমি হবে। চাইলে সঙ্গে এক চামচ দুধের গুঁড়ো মিশিয়ে নিতে পারেন।
দ্বিতীয় ধাপ: চিনি কারামেল করুন
আলাদা পাত্রে চিনির সঙ্গে সামান্য জল মিশিয়ে মাঝারি আঁচে বসান। চিনি গলে ফেনা উঠলে নাড়া বন্ধ করে দিন, রং হালকা বাদামি হলেই নামিয়ে ফেলুন।
তৃতীয় ধাপ: কারামেলের সঙ্গে দুধ মেশান
কারামেলের মধ্যে ধীরে ধীরে গরম দুধ ঢালুন। জোরে না নেড়ে হালকা করে মেশান, যাতে রংটা সব দুধে ছড়িয়ে যায়। পাঁচ মিনিট নাড়ার পর আঁচ বন্ধ করে দিন।
চতুর্থ ধাপ: টক দই দিয়ে জমানো
দুধটা একদম ঠান্ডা হয়ে গেলে তবেই টক দই মেশান। গরম দুধে দই দিলে জমাট বাঁধে না।
মিশ্রণটা ছোট হাঁড়ি বা কাপে ঢেলে দিন। গরম জায়গায় রেখে দিন। আট থেকে দশ ঘণ্টা।
আরও পড়ুন: গরমে এক গ্লাস মিষ্টি পায়েসের রেসিপি
মিষ্টি দই জমানোর সময় যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন
- শীতকালে হাঁড়িটা গরম কাপড়ে মুড়ে রাখুন, দই জমতে সময় লাগে বেশি
- গ্রীষ্মে রান্নাঘরের উষ্ণ কোণেই জমে যায়, নাড়াচাড়া করার দরকার নেই
- চিনি বেশি পোড়ালে তিতা স্বাদ আসে, তাই রং হালকা বাদামি হলেই নমিয়ে নিন
- ঠান্ডা করে খেলেই স্বাদ আসল, তাই তিন চার ঘণ্টা ফ্রিজে রাখুন
দোকানের মিষ্টি দইয়ে থাকে রং আর প্রিজারভেটিভের মিশ্রণ। ঘরে বানালে সেসব নিয়ে ভাবতে হয় না। ব্যস, আপনার হাঁড়িতেও জমবে ঠিক দোকানের মতো ক্রিমি মিষ্টি দই। স্বাদ যে বাড়বে, তাতে সন্দেহ নেই।
বিশেষ দিনে বাড়িতে মাটন কোষা রান্না হলে তার শেষ পাতে মিষ্টি দই হলে মন্দ হয় না। পাতে পড়লেই বুঝবেন, দোকানের চেয়ে কোনও অংশে কম নয়।
আরও পড়ুন: লুচি ও ছোলার ডালের রেসিপি
উপসংহার
মিষ্টি দই রেসিপি মনে রাখা কঠিন কিছু নয়। দুধ ঘন, চিনি কারামেল, টক দই মেশানো, এই তিনটে কাজেই শেষ। একটু ধৈর্য আর সময় দিলেই ঘরের হাঁড়িতে জমবে দোকান ছাপিয়ে স্বাদ। এবার নিজের রান্নাঘরে চেষ্টা করে দেখতে পারেন।








