ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে সুনীল ছেত্রীর নামটি চিরকাল অমর হয়ে থাকবে। মাত্র কিশোর বয়সে ফুটবল শুরু করে আজ তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা, শুধু ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ও লিওনেল মেসির পরেই তাঁর অবস্থান। শুনলে অবাক হবেন, একসময় যিনি ট্রায়ালে ব্যর্থ হয়েছিলেন, তিনিই আজ ভারতীয় ক্রীড়াজগতের এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা!
পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত সুনীল ছেত্রী শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি ভারতীয় ক্রীড়াজগতের এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা। ২০০৫ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে পা রাখার পর থেকে তিনি ভারতীয় ফুটবলকে বিশ্ব মানচিত্রে তুলে ধরেছেন। চলুন, জেনে নেওয়া যাক এই কিংবদন্তি ফুটবলারের জীবন ও কেরিয়ারের নানা অধ্যায়।
শৈশব ও প্রথম জীবন
জীবনী তথ্য
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| জন্ম তারিখ | ৩ আগস্ট ১৯৮৪ |
| জন্মস্থান | সেকেন্দ্রাবাদ, তেলেঙ্গানা, ভারত |
| পিতা | কে বি ছেত্রী |
| মাতা | সুষমা ছেত্রী |
| পেশা | পেশাদার ফুটবলার (অধিনায়ক) |
| পুরস্কার | পদ্মশ্রী (২০১৯), অর্জুন পুরস্কার (২০১১) |
| বর্তমান ক্লাব | বেঙ্গালুরু এফসি |
| জাতীয় দল | ভারত (২০০৫–বর্তমান) |
| সামাজিক মাধ্যম | উইকিপিডিয়া · ইনস্টাগ্রাম · টুইটার (X) |
১৯৮৪ সালের ৩ আগস্ট সেকেন্দ্রাবাদে এক নেপালি-ভারতীয় পরিবারে জন্ম নেন সুনীল ছেত্রী। তাঁর বাবা কে বি ছেত্রী ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন, আর মা সুষমা ছেত্রী গৃহিণী। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি তাঁর অসম্ভব টান ছিল। তবে পরিবারের চাকরির কারণে তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় পড়াশোনা করতে হয়। দিল্লি, শিলং, কলকাতা, বিভিন্ন শহরে কেটেছে তাঁর শৈশব।
প্রথম দিকে সুনীল ছেত্রী দিল্লির সিটি ফুটবল ক্লাবে খেলা শুরু করেন। ২০০১ সালে তিনি দিল্লির আম্বেদকর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত একটি টুর্নামেন্টে খেলার সময় সকলের নজর কাড়েন। কিন্তু সহজ ছিল না তাঁর পথ। একাধিকবার ট্রায়ালে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু হাল ছাড়েননি। শেষমেষ ২০০২ সালে মোহনবাগানের হয়ে খেলার সুযোগ পান।
পেশাদার ফুটবল কেরিয়ার
মোহনবাগানে খেলার সময় সুনীল ছেত্রীর প্রতিভা ফুটে ওঠে। ২০০৫ সালে জর্জটাউন (কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ) ও ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ার শুরু। এই বছরের মাঝেই তিনি খেলেন পাকিস্তানের বিপক্ষে তাঁর প্রথম গোল। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
২০১১ সালে তিনি ভারতীয় জাতীয় দলের অধিনায়ক হন। তাঁর নেতৃত্বেই ভারত ২০০৭, ২০০৯, ২০১২ সালে নেহেরু কাপ এবং ২০১১ ও ২০১৫ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জেতে। এশিয়া কাপেও ভারতকে নেতৃত্ব দিয়ে অসামান্য পারফরম্যান্স দেখান তিনি। শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর গোল সংখ্যা ৯৪ ছাড়িয়ে গেছে, যা তাঁকে মেসি ও রোনাল্ডোর পর তৃতীয় সর্বোচ্চ সক্রিয় গোলদাতার আসনে বসিয়েছে।
পদ্মশ্রী ও অন্যান্য সম্মাননা
২০১১ সালে ভারত সরকার তাঁকে অর্জুন পুরস্কারে সম্মানিত করে। ২০১৯ সালে ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার পদ্মশ্রী প্রদান করা হয় তাঁকে। এছাড়াও ২০২১ সালে তিনি খেল রত্ন পুরস্কারে ভূষিত হন। ফুটবলে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাও তাঁকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
ভিডিও দেখুন: সুনীল ছেত্রীর জীবনী নিয়ে বিস্তারিত বাংলায় জানুন — তাঁর শৈশব, ফুটবল কেরিয়ার ও ভারতীয় ফুটবলে অবদান।
উপসংহার
সুনীল ছেত্রী ভারতীয় ফুটবলের এক অমর অধ্যায়। একজন সাধারণ ছেলে থেকে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে নিজের নাম লেখানো এই কিংবদন্তির কেরিয়ার লক্ষ লক্ষ তরুণের জন্য অনুপ্রেরণা। তাঁর দৃঢ়তা, নিষ্ঠা আর ভালোবাসা ফুটবলের প্রতি তাঁকে চিরকাল স্মরণীয় করে রাখবে। আপনি কি জানেন, তিনি ভারতীয় ফুটবলের একমাত্র খেলোয়াড় যিনি আন্তর্জাতিক গোলের নিরিখে মেসি-রোনাল্ডোর পাশে দাঁড়িয়েছেন?








