বিরাট কোহলির জীবনী সম্পর্কে জানুন। ভারতীয় ক্রিকেটের সেরা ব্যাটসম্যানের শৈশব, আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার, অসাধারণ রেকর্ড ও ব্যক্তিগত জীবন।
ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে বিরাট কোহলির মতো আর কোনো ব্যাটসম্যান সম্ভবত নেই, যিনি এত অল্প বয়সেই নিজেকে কিংবদন্তির আসনে বসিয়ে ফেলেছেন। দিল্লির এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া এই ছেলেটি আজ সারা বিশ্বের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম। তাঁর ব্যাটিং স্টাইল, আগ্রাসী মনোভাব আর রেকর্ড ভাঙার অসামান্য দক্ষতা তাঁকে আলাদা করে চিনিয়ে দেয়।
আপনি কি জানেন, মাত্র ৩ বছর বয়স থেকে তিনি ব্যাট হাতে ক্রিকেট শুরু করেছিলেন? শুনলে অবাক হবেন, বাবার সাথে গলির ক্রিকেট খেলে তাঁর যাত্রা শুরু। পরে সেই যাত্রা গিয়ে দাঁড়ায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ শিখরে। চলুন, জেনে নেওয়া যাক বিরাট কোহলির জীবন ও কেরিয়ারের নানা দিক।
বিরাট কোহলির জন্ম ১৯৮৮ সালের ৫ নভেম্বর নয়া দিল্লিতে এক পাঞ্জাবি হিন্দু পরিবারে। তাঁর বাবা প্রেম নাথ কোহলি ছিলেন একজন ক্রিমিনাল আইনজীবী, আর মা সরোজ কোহলি গৃহিণী। তাঁর এক বড় ভাই বিকাশ ও এক বড় বোন ভাবনা রয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি তাঁর ছিল অসম্ভব টান। মাত্র ৩ বছর বয়সে তিনি ব্যাট হাতে বাবাকে বল করতে বলতেন।
১৯৯৮ সালে ওয়েস্ট দিল্লি ক্রিকেট অ্যাকাডেমি তৈরি হয় এবং বাবা তাঁকে রাজকুমার শর্মার কাছে নিয়ে যান। সেখান থেকেই শুরু তাঁর পেশাদার ক্রিকেটের পথচলা। ২০০৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাবার মৃত্যু তাঁর জীবন বদলে দেয়। তারপর থেকেই ক্রিকেটকে আরও গুরুত্ব সহকারে নেন তিনি।
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| জন্ম তারিখ | ৫ নভেম্বর ১৯৮৮ |
| জন্মস্থান | নয়া দিল্লি, ভারত |
| পিতা | প্রেম নাথ কোহলি |
| দাম্পত্য সঙ্গী | অনুষ্কা শর্মা |
| শিক্ষা | বিশাল ভারতী পাবলিক স্কুল, সেভিয়র কনভেন্ট স্কুল |
| ক্রিকেটে ভূমিকা | ডানহাতি ব্যাটসম্যান, মাঝে মাঝে মিডিয়াম পেস বোলার |
| পুরস্কার | পদ্মশ্রী (২০১৭), অর্জুন পুরস্কার (২০১৩), খেলরত্ন (২০১৮) |
| আইপিএল দল | রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু |
| সন্তান | ২ (ভামিকা ও আকায়) |
২০০৮ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে অপরাজেয় থাকেন বিরাট কোহলি। সেই টুর্নামেন্টে ২৩৫ রান করেন তিনি এবং ভারত চ্যাম্পিয়ন হয়। এরপর ২০০৮ সালের আগস্ট মাসে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে তাঁর ওডিআই অভিষেক হয়। প্রথম ম্যাচে মাত্র ১২ রান করলেও, পরে নিজেকে প্রমাণ করতে সময় লাগেনি।
২০১১ সালের জুন মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তাঁর টেস্ট অভিষেক হয়। প্রথম দিকে রান পেতে সংগ্রাম করলেও, ২০১২ সালের জানুয়ারিতে অ্যাডিলেডে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করেন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ধীরে ধীরে তিনি ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপের মেরুদণ্ডে পরিণত হন।
২০১৪ সালে মহেন্দ্র সিং ধোনির কাছ থেকে টেস্ট অধিনায়কত্ব নেওয়ার পর বিরাট কোহলির নেতৃত্বে ভারতীয় ক্রিকেট নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। তিনি টানা তিন ফরম্যাটেই ভারতের অধিনায়ক ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে ভারত ২০১৮-১৯ সালে অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবার টেস্ট সিরিজ জেতে এবং ঘরের মাঠে অপরাজেয় থাকে বছরের পর বছর।
২০২৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেন তিনি। ফাইনালে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হন বিরাট। ২০২৫ সালে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ী দলেরও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। ২০২৫ সালের ১২ মে টেস্ট ক্রিকেট থেকেও অবসর নেন। বর্তমানে তিনি কেবল ওডিআই ফরম্যাটেই খেলছেন।
বিরাট কোহলি ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে অভিনেত্রী অনুষ্কা শর্মাকে বিয়ে করেন। তাঁদের দুটি সন্তান রয়েছে , কন্যা ভামিকা (২০২১) এবং পুত্র আকায় (২০২৪)। ক্রিকেটের পাশাপাশি সমাজসেবায়ও যুক্ত রয়েছেন তিনি। তাঁর দাতব্য সংস্থা অসহায় শিশুদের শিক্ষার জন্য কাজ করে।
তিনি এখন পর্যন্ত ১০টি আইসিসি অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বাধিক। ২০১২, ২০১৭, ২০১৮ এবং ২০২৩ সালে বর্ষসেরা ওডিআই খেলোয়াড় হন তিনি। ২০১৮ সালে একই বছরে বর্ষসেরা ক্রিকেটার, বর্ষসেরা ওডিআই ও বর্ষসেরা টেস্ট খেলোয়াড় হওয়ার কীর্তি গড়েন। ২০১৭ সালে পদ্মশ্রী, ২০১৩ সালে অর্জুন পুরস্কার এবং ২০১৮ সালে খেলরত্ন পুরস্কারে সম্মানিত হন তিনি।
আইপিএলে তিনি সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ২০২২ সালে এশিয়া কাপে ১,০০০ দিন পর প্রথম সেঞ্চুরি করে ফর্মে ফেরেন তিনি। ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। আরও পড়ুন: বিসিসিআই-এর অফিসিয়াল সাইট।
বিরাট কোহলির জীবনী থেকে আমরা শিখি — কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা আর আত্মবিশ্বাস দিয়ে যেকোনো লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। দিল্লির এক সাধারণ ছেলে থেকে বিশ্বক্রিকেটের আইকনে পরিণত হওয়ার গল্প সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। তাঁর অসাধারণ কেরিয়ার আর অনন্য রেকর্ড আগামী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের পথ দেখাবে। আরও পড়ুন: ESPNcricinfo-তে বিরাট কোহলির পরিসংখ্যান।
This post was last modified on 8th July 2026 6:45 pm