বিজ্ঞপ্তি

প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা ২০২৬: কারিগরদের জন্য সরকারি ঋণ ও প্রশিক্ষণের সম্পূর্ণ গাইড

আপনি কি জানেন, দেশের লক্ষ লক্ষ কারিগর যারা হাতের কাজ করে জীবন ধারণ করেন, তাদের জন্য সরকার চালু করেছে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা? এই যোজনাটি মূলত সেই সমস্ত মানুষদের কথা ভেবেই তৈরি করা হয়েছে, যারা বাপ-দাদার পেশার উত্তরাধিকার ধরে নানা ধরনের হস্তশিল্পের কাজের সঙ্গে যুক্ত। সেলাইয়ের কাজ হোক বা কাঠের খোদাই, মৃৎশিল্প হোক বা স্বর্ণশিল্প, সব ধরনের কারিগরদের জন্য এই প্রকল্প এক বিশাল সুযোগ এনে দিয়েছে।

শুধু তাই নয়, এই প্রকল্পের মাধ্যমে কারিগররা পাচ্ছেন বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ এবং এমনকি টুলকিট কেনার জন্য আর্থিক সাহায্য। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই যোজনা চালু করেন। তারপর থেকে এখনও পর্যন্ত ২৪ লক্ষেরও বেশি কারিগর এই প্রকল্পে নিবন্ধন করেছেন বলে জানা গেছে। সরকারের লক্ষ্য হল ২০২৮ সালের মধ্যে ৩০ লক্ষ কারিগরকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা।

কী কী সুবিধা পাবেন এই যোজনায়?

প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা শুধু একটি প্রকল্প নয়, এটি কারিগরদের জীবনের দিশা বদলে দেওয়ার এক পূর্ণাঙ্গ উদ্যোগ। সরকার এই যোজনার মাধ্যমে পাঁচটি মূল সুবিধা দিচ্ছে। প্রথমত, প্রতিটি নিবন্ধিত কারিগরকে দেওয়া হচ্ছে একটি সনদপত্র ও পরিচয়পত্র, যা তাদের কাজের সরকারি স্বীকৃতি দেয়। দ্বিতীয়ত, তারা পাচ্ছেন ৫-৭ দিনের মৌলিক প্রশিক্ষণ এবং ১৫ দিন বা তার বেশি সময়ের উন্নত প্রশিক্ষণ, যার জন্য দিনে ৫০০ টাকা করে প্রশিক্ষণ ভাতা দেওয়া হয়।

তৃতীয়ত, প্রশিক্ষণের শুরুতেই প্রতিটি কারিগরকে দেওয়া হচ্ছে ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত টুলকিট ইনসেনটিভ ই-ভাউচার আকারে। চতুর্থত, সবচেয়ে বড় সুবিধা হল বিনা জামানতে ঋণ। এই যোজনায় কারিগররা পাচ্ছেন ৫% সুদে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ, যা দুটি কিস্তিতে দেওয়া হয় , প্রথমে ১ লক্ষ টাকা এবং পরে আরও ২ লক্ষ টাকা। পঞ্চমত, সরকার ডিজিটাল লেনদেনের জন্য উৎসাহ দিচ্ছে , প্রতি ডিজিটাল লেনদেনে ১ টাকা করে মাসে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে।

কারা আবেদন করতে পারবেন?

এই বিশ্বকর্মা যোজনার জন্য আবেদন করতে গেলে কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রথমত, আবেদনকারীকে হতে হবে একজন কারিগর বা হস্তশিল্পী, যিনি হাতের কাজ এবং সরঞ্জাম দিয়ে নিজের জীবিকা নির্বাহ করেন। যোজনায় মোট ১৮টি পেশাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে , যেমন ছুতোর, কামার, স্বর্ণকার, কুম্ভকার, মুচি, দর্জি, রাজমিস্ত্রি, নাপিত, মালাকার, ধোবি এবং আরও অনেক। দ্বিতীয়ত, আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে।

তৃতীয়ত, আবেদনকারী যাতে আগামী পাঁচ বছরে কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের অনুরূপ কোনো ঋণভিত্তিক প্রকল্পের সুবিধা না নিয়ে থাকেন , যেমন মুদ্রা যোজনা, পিএমইজিপি বা পিএম স্বনিধি। তবে যাঁরা আগের ঋণ পুরোপুরি শোধ করেছেন, তাঁরা এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন। চতুর্থত, প্রতি পরিবার থেকে শুধু একজন সদস্যই এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবেন। আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা ২০২৬ , সম্পূর্ণ গাইড।

প্রয়োজনীয় নথিপত্র

  • আধার কার্ড (আবেদনকারীর)
  • মোবাইল নম্বর (আধারের সাথে লিঙ্ক করা)
  • ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ
  • পাসপোর্ট সাইজের ছবি
  • বয়সের প্রমাণপত্র
  • ঠিকানার প্রমাণপত্র (ভোটার কার্ড বা ড্রাইভিং লাইসেন্স)

কীভাবে আবেদন করবেন?

আবেদন করার প্রক্রিয়া খুবই সহজ। প্রথমে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট-এ গিয়ে নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। এরপর সাধারণ তথ্য ও পেশার বিবরণ দিয়ে ফর্ম পূরণ করতে হবে। সবশেষে, প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করে ফাইনাল সাবমিট করলেই আবেদন সম্পন্ন হবে। এছাড়াও আপনি নিজের নিকটস্থ কমন সার্ভিস সেন্টার (সিএসসি)-তেও গিয়ে আবেদন করতে পারবেন, সেখানে কর্মীরা ফর্ম পূরণ করতে সাহায্য করবেন।

উপসংহার

প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা সত্যিই দেশের কারিগরদের জন্য এক যুগান্তকারী প্রকল্প। বিনা জামানতে ঋণ, বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ এবং টুলকিটের আর্থিক সাহায্য, এই তিনটি সুবিধাই একজন সাধারণ কারিগরের জীবন বদলে দেওয়ার মতো। আপনি যদি কোনো হস্তশিল্পের কাজ করেন বা কোনো কারিগরকে চেনেন, তাহলে দেরি না করে এই প্রকল্পে আবেদন করার পরামর্শ দিন। সরকারের এই উদ্যোগ শুধু ব্যক্তির উন্নতি নয়, দেশের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখারও এক অসাধারণ প্রচেষ্টা।

Summarize with AI

This post was last modified on 9th July 2026 10:10 pm