ভারতের কৃষকদের জন্য পিএম কিষাণ সম্মান নিধি যোজনা একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ২০১৮ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের অধীনে কৃষক পরিবারগুলিকে বছরে তিনটি কিস্তিতে মোট ৬,০০০ টাকা সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রদান করা হয়। ইতোমধ্যে ২২তম কিস্তি ২০২৬ সালের ১৩ মার্চ গুয়াহাটিতে মুক্তি পেয়েছে এবং বর্তমানে কৃষকদের মধ্যে ২৩তম কিস্তি নিয়ে আলোচনা চলছে।
পিএম কিষাণ সম্মান নিধি যোজনার সুবিধা নিয়ে এখনও পর্যন্ত দেশের প্রায় ৯.৫ কোটির বেশি কৃষক উপকৃত হয়েছেন। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হল কৃষকদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করে তাদের কৃষিকাজের জন্য প্রয়োজনীয় পুঁজি নিশ্চিত করা। ২৩তম কিস্তির সম্ভাব্য তারিখ, যোগ্যতা, ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া এবং স্ট্যাটাস চেকের সম্পূর্ণ তথ্য এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| স্কিমের নাম | প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি (PM-KISAN) |
| ২২তম কিস্তি প্রকাশের তারিখ | ১৩ মার্চ ২০২৬ |
| ২৩তম কিস্তি (সম্ভাব্য) | জুন-জুলাই ২০২৬ (চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা হয়নি) |
| কিস্তির পরিমাণ | ২,০০০ টাকা (মোট বার্ষিক ৬,০০০ টাকা) |
| পেমেন্ট মোড | DBT (ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার) |
| প্রয়োজনীয় নথি | আধার কার্ড, জমির দলিল, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট |
| eKYC বাধ্যতামূলক | হ্যাঁ |
| অফিসিয়াল ওয়েবসাইট | pmkisan.gov.in |
প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি (PM-KISAN) হলো একটি কেন্দ্রীয় প্রকল্প, যা সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্র সরকারের অর্থায়নে চালু করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায়, জমি মালিক কৃষক পরিবারগুলোকে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়। প্রতি বছর কৃষকদের আধার-লিঙ্ক করা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তিনটি কিস্তিতে মোট ৬,০০০ টাকা জমা করা হয়।
গত কিস্তির সময়সূচি অনুযায়ী, ২৩তম কিস্তি জুন বা জুলাই ২০২৬ মাসে প্রকাশিত হতে পারে। ২২তম কিস্তি ১৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে জারি করা হয়েছিল। সাধারণত প্রতি ৪-৫ মাস অন্তর একটি নতুন কিস্তি প্রকাশ হয়। তাই, জুন-জুলাই ২০২৬ সালের মধ্যে ২৩তম কিস্তি ঘোষণার আশা করা হচ্ছে। তবে, সরকার পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট তারিখ জানা যায়নি।
পূর্ববর্তী কিস্তিগুলির সময়সূচি:
সরকার স্পষ্ট করে বলেছে যে eKYC সম্পন্ন না হলে কোনো কৃষক পিএম কিষাণের পরবর্তী কিস্তি পাবেন না। তাই ২৩তম কিস্তি পাওয়ার জন্য eKYC সম্পন্ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
eKYC সম্পূর্ণ করার তিনটি পদ্ধতি:
প্যান কার্ডের নতুন নিয়ম-এর মতোই আধার কার্ডের সঙ্গে অন্যান্য নথি মিলিয়ে রাখা জরুরি, যাতে কোনো সমস্যা না হয়।
নিচের ধাপগুলি অনুসরণ করে আপনি আপনার পিএম কিষাণ স্ট্যাটাস সহজেই চেক করতে পারেন:
| পদ্ধতি | ধাপ |
|---|---|
| অফিসিয়াল ওয়েবসাইট | pmkisan.gov.in → Beneficiary Status → আধার নম্বর বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিন |
| মোবাইল অ্যাপ | PMKISAN অ্যাপ ডাউনলোড করুন → Farmers Corner → Beneficiary Status |
| কমন সার্ভিস সেন্টার | নিকটস্থ CSC-তে গিয়ে নাম ও আধার কার্ড দিয়ে স্ট্যাটাস জানুন |
স্ট্যাটাস চেক করার সময় আপনার রেজিস্ট্রেশন নম্বর বা আধার নম্বর প্রয়োজন হবে। OTP ভেরিফিকেশনের পর আপনার কিস্তির বিবরণী দেখতে পাবেন। সরকারি চাকরির আবেদনের মতোই এই প্রক্রিয়ায় সঠিক তথ্য দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পিএম কিষাণ সম্মান নিধির জন্য যোগ্য হতে গেলে নিম্নলিখিত শর্তগুলি পূরণ করতে হবে:
কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণি এই প্রকল্পের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে, যেমন—সাংবিধানিক পদাধিকারী, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কর্মচারী (গ্রুপ D ব্যতীত), যারা ইনকাম ট্যাক্স দেন, এবং নিবন্ধিত পেশাদার (চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট) প্রমুখ।
যারা এখনও পিএম কিষাণে নিবন্ধন করেননি, তারা নিচের পদ্ধতিতে নিবন্ধন করতে পারেন:
প্রযুক্তির এই যুগে অনলাইন প্রক্রিয়াই সবচেয়ে সহজ এবং দ্রুততর উপায়।
পিএম কিষাণ সম্মান নিধি ভারতের কৃষকদের জন্য একটি যুগান্তকারী প্রকল্প। ২৩তম কিস্তি পেতে কৃষকদের শুধুমাত্র eKYC সম্পূর্ণ করতে হবে এবং তাদের আধার ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সঠিকভাবে লিঙ্ক করা আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। সময়মতো eKYC করালে কিস্তি পেতে কোনো সমস্যা হবে না। সরকারি ওয়েবসাইট pmkisan.gov.in-এ নিয়মিত আপডেট চেক করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
This post was last modified on 9th June 2026 6:16 pm