নোবেল এখন একটি জনপ্রিয় নাম। অনেক অনেক আগ থেকে আলফ্রেড বি নোবেলের নাম জানা থাকলেও বাংলাদেশে এমন এক নোবেল ছিল যা অনেকেরই অজানা। জি বাংলার জনপ্রিয় অনুষ্ঠান সা-রে-গা-মা-পা এর কল্যানে নোবেল এখন সব বাঙ্গালীর হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে।
বাঙ্গালীর হৃদয়ে স্থান করে নেওয়ার পাশা-পাশি নোবেলকে নিয়ে জন্ম হয়েছে বিতর্ক। একই সাথে নোবেল ভক্তরা মনে করেন নোবেলই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার যোগ্য। যৌথভাবে রানার্স আপ হওয়ায় নোবেল ভক্তদের ক্ষোভের সীমা নেই। ক্ষোধ কলকাতাতেই তার ভক্তরা এই বিচার নিয়ে প্রশ্ন করছেন।
সা রে গা মা পা ২০১৯’-এ অংশ নিয়ে পুরো শোজুড়েই আলোচনায় ছিলেন বাংলাদেশের ছেলে নোবেল। তার পাশাপাশি এবার নোবেল হলেন সমালোচিত। এক লাইভ সাক্ষাৎকারে জাতীয় সংগীত নিয়ে মন্তব্য করেছেন তিনি। সেই সাক্ষাৎকারে নোবেল বলেছেন, ‘রবীন্দ্রনাথের লেখা জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’ যতটা না দেশকে প্রকাশ করে তার চেয়ে কয়েক হাজার গুণ বেশি প্রকাশ করেছে প্রিন্স মাহমুদের লেখা ‘বাংলাদেশ’ গানটি।
নোবেলের জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে এ ধরণের কথা বলায় নোবেল ভক্ত সহ সমস্ত বাঙ্গালীর হৃদয়ে হয়েছেন সমালোচিত।
সা-রে-গা-মা-পা হাজারো বাঙ্গালীর কাছে গানের একটি জনপ্রীয় অনুষ্ঠান। সকল অনুষ্ঠান ফেলে বাঙ্গালীরা অপেক্ষা করে শনি রবিবারের জন্য। সেই সাথে বাংলাদেশীরা অপেক্ষা করে কখন নোবেল এর গান হবে। সা-রে-গা-মা-পা এর প্রথম দিকে বাংলাদেশের কয়েকজন থাকলেও বাংলাদেশীদের স্বপ্ন দেখান নোবেল। একই সাথে তার গানের ভঙ্গিতে হাজারো নোবেল ভক্ত তৈরী হয়। মাইনুল আহসান নোবেল। জি বাংলার সা-রে-গা-মা-পা এর আগে তার পরিচিত বন্ধু বান্ধব ছাড়া কেউ তার নাম জানত না। অথচ আজ সমস্ত বাংলা জুড়ে নোবেলের পরিচিতি।
১৯৯২ সালের ৭ নম্বের গোপালগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন নোবেল। নোবেলের বাবা মোজাফ্ফর এইচ নান্নু। তিনি ব্যবসায়ী হওয়ায় বাবার সাথে নোবেল বিভিন্ন জেলায় ঘুরে বেরিয়েছেন। শিক্ষা জীবনে প্রত্যেক বছর বিদ্যালয় পরিবর্তন করতে হয়েছে। একই ক্লাস একাধিকবারও পড়েছেন।
নোবেল গদবাধা লেখাপড়ার জীবনকে বিদায় জানাবেন এবং সংগীত জগতে বিচরণ করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন। পরিবার থেকে প্রথমে আপত্তি থাকলেও নোবেল হার মানেননি। গুরু জেমসের মত হওয়ার স্বপ্নই নোবেলকে এগিয়ে দেয় স্বপ্নের পথে।
সেই স্বপ্নের পথে যাওয়ার জন্য নোবেল ভারতে গিয়ে ক্লাস নাইনে ভর্তি হন। প্রবেশ করেন গানের জগতে। কোন প্রকার প্রশিক্ষণ ছাড়াই চালিয়ে যেতে থাকে তার সঙ্গীত চর্চা।
যখন পরিবার, নিজের, দেশ জাতির জন্য প্রাপ্তির ঢালা পূর্ণ করবেন তখন একে একে বিতর্কে জড়ান নোবেল। প্রথমে জেমসের একটি গান নিয়ে যা গাওয়ার জন্য জেমস অনুমতি প্রদান করেননি এরকম সাক্ষাতকার প্রদান করেন নোবেল। পরবর্তীতে জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে মন্তব্য করায় ভারতীয় এক গণমাধ্যমে ইমন বলেন, ‘নোবেল যে শুধু বাংলাদেশকে অপমান করেছেন, জাতীয় সংগীতের অবমাননা করেছেন- এমন নয়; আমি মনে করি তিনি বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মাভিমানে আঘাত করেছেন। একজন শিল্পী হিসেবে আমি এর প্রতিবাদ জানাই।’
This post was last modified on 3rd আগস্ট 2019 2:16 অপরাহ্ন