স্বপ্নের খান জাহান আলী বিমানবন্দর আর বেশী দূরে নয় বাগেরহাটের

0

খান জাহান আলী বিমানবন্দর একটি প্রস্তাবিত বিমানবন্দর। পীর খান জাহান আলী বাগেরহাট তথা দক্ষিণ বঙ্গের আধুনিক সভ্যাতার কারিগর। খান জাহান আলীর নামে প্রস্তাবিত বিমানবন্দর বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম বিমানবন্দর। যা বিভাগীয় শহর খুলনার খুব কাছে অবস্থিত। এর পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্মস্থান গোপালগঞ্জ থেকেও বেশী দূরে নয়। খান জাহান আলী বিমান বন্দর থেকে বাংলাদেশের অন্যতম নৌবন্দর মোংলা কাছেই অবস্থিত। ১৯৯৬ সালে বিমানবন্দরের জন্য বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার ফয়লা এলাকায় জমি অধিগ্রহণ করা হয়। কিন্তু এখনো বিমানবন্দরটি চালু করা সম্ভব হয়নি ।

দক্ষিনাঞ্চলে বিমানবন্দর স্থাপনের জন্য ১৯৬১ সালে খুলনা শহর থেকে ১৭ কিলোমিটার উত্তরে বর্তমান ফুলতলা মশিয়ালী গ্রামে স্থান নির্বাচন করা হয়। ১৯৬৮ সালে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে খুলনা শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে বিল ডাকাতিয়ার তেলিগাতী এলাকায় স্থান নির্ধারণ করে জমিও অধিগ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে সেই জমিও বাতিল করে আশির দশকে বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালী এলাকায় স্থান নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে বর্তমান জায়গায় ৯৫ একর জমি অধিগ্রহন করে খানজাহান আলী বিমানবন্দর এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। পরবর্তী সময়ে আরও ৫৩৬ একর জমি অধিগ্রহন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প-এর তালিকায় খানজাহান আলী বিমানবন্দর অন্যতম। ১০৭১ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য বাগেরহাটের জেলা প্রশাসন থেকে একটি কমিটি স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে সরজমিনে পরিদর্শন করে বাজার, স্কুল ও মাদ্রাসাসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত না করে ‘খানজাহান আলী বিমান বন্দর নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের জন্য ন্যূনতম জমি অধিগ্রহণ করা যেতে পারে বলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) পত্র দেয়। এরপর ১৮ অক্টোবর চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। তথ্যসূত্র মতে খানজাহান আলী বিমানবন্দরের নয়টি মৌজায় মোট জমির পরিমাণ ৫৩৬ একর। ইতিমধ্যে খান জাহান আলী বিমান বন্দর নির্মাণের জন্য থোক বরাদ্দ পাওয়া গেছে ৪৩ কোটি টাকা।

৩১ জুলাই বুধবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে খানজাহান আলী বিমানবন্ধর নির্মানের জন্য অধিগ্রহনকৃত জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের চেক প্রদান করা হয়েছে। চেক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। চেক প্রদান অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে চেক প্রদান অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ শাহিন হোসেন, রামপাল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, প্রেসক্লাবের সভাপতি আহাদ উদ্দিন হায়দার, সাধারণ সম্পাদক বাকি তালুকদার, সাংবাদিক বাবুল সরদার, আজমল হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ৫৩ জনকে এক কোটি ৭ লক্ষ টাকা ক্ষতি পূরণের চেক প্রদান করা হয়।

খান জাহান আলী বিমানবন্দরে ক্ষতিগ্রস্থদের চেক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, উন্নয়নের স্বার্থে অনেক সময় নিজেদের কিছু ক্ষতি মেনে নিতে হয়। তবে যারা জমি দিয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রেখেছেন, তারা যাতে হয়রানি ছাড়াই ক্ষতিপূরণের টাকা পায় সে জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেন তিনি।

আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.