সময়ের সাথে হাত মিলিয়ে

Advertisement

ভারত চীন বানিজ্য যুদ্ধ, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি করায় দাম বাড়তে পারে ঔষধের

0

বং দুনিয়া ওয়েব ডেস্কঃ  একদিকে গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া অতিমারি করোনা সংক্রমণের জন্য অনেক দেশ প্রত্যক্ষ কিম্বা পরোক্ষভাবে দুষছে চীনকে । অন্যদিকে আমেরিকার পর ভারতের সাথে শুরু হয়েছে চিনের বাণিজ্য যুদ্ধ । এই যুদ্ধের মধ্যে চীনা দ্রব্য আমদানি বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায়, ভারতে আগামি দিনে মহার্ঘ ঔষধের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যেতে পারে এমনটাই মনে করা হচ্ছে ।

লাদাখ সীমান্তে ভারত এবং চীনা সেনাদের রক্তক্ষয়ী হাতাহাতিতে ২০ জন ভারতীয় জওয়ান শহীদ হয়েছেন । এই ঘটনার পর থেকেই  দেশ জুড়ে চিনকে বয়কট করার রব উঠেছে। আর তারপর থেকেই চাপ পড়েছে চিন থেকে আমদাবি করা দ্রব্যে। এদিকে ভারতের বেশিরভাগ ঔষধের কাচামাল আসে চীন থেকে । কাঁচামালের যোগানের অভাব দেখা দিলে আগামি দিনে তার প্রভাব পড়বে ভারতীয় বাজারে ।

প্রিসংখ্যান বলছে, চিন থেকে একাধিক জিনিস আমদানি করে ভারত ।সম্প্রতি আমদানি কমে যাওয়ায় গত এক সপ্তাহের মধ্যে একধাক্কায় ৩০ গুন বেড়েছে ওষুধের কাঁচামালের দাম। যার ফলে ওষুধের দাম বেশ খানিকটা বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই উত্তরাখণ্ডের এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে সেখানকার ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রির তরফে জানানো হয়েছে। ভারতের বেশির ভাগ ওষুধই তৈরি হয় উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশে। এই দুই রাজ্যের কয়েক’শ ফার্মা সংস্থায়ব ভারতের মোট ওষুধের অর্ধেক তৈরি হয়। বছর কয়েকের মধ্যে ওষুধের ব্যবসা ব্যাপক হারে বাড়বে বলেই আশা করা হচ্ছিল। কিন্তু যেভাবে কাঁচামালের দাম বাড়াতে শুরু করেছে, তাতে ওষুধ ব্যবসা নিয়ে আশঙ্কাই তৈরি হয়েছে। কারণ বেশির ভাগ কাঁচামালই আসে চিন থেকে। চিন থেকেই ওইসব জিনিস সস্তায় পাওয়া যায়।

এই সব মহার্ঘ ঔষধের কাঁচামাল আসে চীন থেকে

এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের চীনা দ্রব্য বয়কট ঘোষণার পর চীন নতুন খেলা খেলতে শুরু করেছে । গালওয়ান ভ্যালির ওই ঘটনার পর থেকেই চিন কাঁচামালে দাম বাড়াতে শুরু করেছে। এই মুহুরতে প্রকৃত বাস্তব এটাই যে,  কাঁচামালের আমদানির ক্ষেত্রে চিনের যে আধিপত্য আছে, তার কাছে ভারতের এই ওষুধ সংস্থাগুলি কার্যত অসহায়। উপরন্তু চীন আরও একটি খেলা শুরু করে দিয়েছে ইতিমধ্যে । জানা গেছে চিনের সাপ্লায়াররা কাঁচামালের জন্য অগ্রিম টাকা চাইছে। অনেকেই মনে করছেন আগামি দিনে  আরও নানা রকম শর্ত আরোপ করতে পারে যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে  ওষুধ তৈরির সংস্থাগুলি।

সবমিলিয়ে আগামি দিনে যদি চীন থেকে কাচামাল না আমদানি করা হয়, তাহলে আমেরিকা বা ইউরোপ থেকে কাচামাল আমদানি করতে হবে । সেক্ষেত্রে খরচ বেড়ে যাবে দ্বিগুণ । প্যারাসিটামল ও একাধিক অ্যান্টি বায়োটিকের কাঁচামাল আসে চিন থেকে। ফলে সাধারন মানুষ যেভাবে চিনা দ্রব্য বয়কট করা কথা ভাবছে, তার থেকে বাস্তবটা একেবারে আলাদা।

মন্তব্য
Loading...