কোন দেশে কিভাবে করোনার আক্রান্তদের চিকিৎসা করা হচ্ছে ? জেনে নিন

এই মুহূর্তে করোনা সংক্রমণের কোন প্রকার প্রতিষেধক বিজ্ঞানীদের হাতে আসেনি । কিন্তু করোনার চিকিৎসা কিভাবে করা হচ্ছে জেনে নিন ।

0

বং দুনিয়া ওয়েব ডেস্কঃ করোনার চিকিৎসা ! গোটা বিশ্বে মহামারীর আকার ধারন করা করোনা সংক্রমণকে ঘিরে মানুষের মনে উঠে আসছে নানা প্রশ্ন। এই সব প্রশ্নগুলির মধ্যে অন্যতম একজন ব্যাক্তি যদি করোনা সংক্রামিত হন তাহলে তাঁকে কিভাবে চিকিৎসা করা হচ্ছে ? প্রশ্ন উঠছে কারন এখনো পর্যন্ত করোনার কোন প্রকার প্রতিষেধক আবিষ্কার না হওয়ায় এক এক দেশে এক এক ভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে করোনা আক্রান্তকে সুস্থ করে তোলার । এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এখনও পর্যন্ত কিভাবে করোনা রোগীর চিকিৎসা করা হয়েছে ।

এই মুহূর্তে করোনা সংক্রমণের কোন প্রকার প্রতিষেধক বিজ্ঞানীদের হাতে আসেনি । ফলে যদি কেউ বলেন যে করোনার প্রতিষেধক বের হয়েছে, তাহলে বেশী উৎফুল্ল হবার কারন নেই । সম্প্রতি হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ট্যাবলেট নিয়ে আমেরিকার সাথে ভারতের একপ্রস্থ নাতক হয়ে গেছে । আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্র্যাম্প সর্বপ্রথম হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনকে করোনা মোকাবিলায় “গেম চেঞ্জার” হিসাবে ঘোষণা করেছিলেন । এমনকি  ‘ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ’ বা আইসিএমআর কোভিড-১৯ ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে ঝুঁকিপূর্ণ আক্রান্তকে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন জাতীয় ওষুধ গ্রহণের সুপারিশ করেছেন।

কিন্তু হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহারের ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত বেশ কিছু মতবিরোধ রয়েছে ।ইন্ডিয়ান সোসাইটি ফর ক্রিটিক্যাল কেয়ারের জেনারেল সেক্রেটারি অরিন্দম কর হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন বিষয়ে জানিয়েছেন,  “করোনা আক্রান্তদের ক্ষেত্রে  রোগীর শারীরিক সমস্যা কমাতে কিছু ওষুধ ব্যবহার করেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভাল ফল পাওয়া যাচ্ছে। তবে সার্স কোভ-২ করোনা ভাইরাসের ওষুধ নিয়ে শেষ কথা বলার সময় আসতে এখনও অনেক ট্রায়াল বাকি।’’

করোনার চিকিৎসা
করোনার চিকিৎসা কিভাবে করা হচ্ছে | Image Source: bongdunia

তবে দেখা গেছে একজন ব্যাক্তি করোনা আক্রান্ত হলে ধীরে ধীরে তাঁর শরীরে কিছু সমস্যা দেখা দেয় । সেক্ষেত্রে,  করোনা আক্রান্তদের শারীরিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে ওষুধ দেওয়া হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে (৮৫–৯০ শতাংশ) ভাইরাল ফিভার আপন নিয়মেই সেরে যায়। কিন্তু কোভিড-১৯ অসুখটা বিশ্ব অতিমারি হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছে বলে কোনও ঝুঁকি না নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছে।

করোনা ভাইরাসের কবলে পড়ে ভর্তি হলে উপসর্গ ভিত্তিক চিকিৎসা হিসেবে সবার প্রথমে জ্বর কমাতে প্যারাসিটামল দেওয়া হয়। পূর্ণবয়স্ক মানুষকে দিনে ৪ গ্রাম পর্যন্ত প্যারাসিটামল দেওয়া যেতে পারে। জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে মাথা ব্যাথা-সহ অন্যান্য ব্যথা বেদনা ও অবসাদ দূর করতে সাহায্য করে। কিন্তু কোনও অবস্থাতেই সার্স কোভ-২ করোনা ভাইরাস আক্রান্তকে নন স্টেরয়েডাল অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি ড্রাগ দেওয়া চলবে না।

এছাড়া দেখা গেছে সার্স কোভ-২ করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের ২০–৩০ শতাংশের সেকেন্ডারি ইনফেকশন হয়। তখন কিছু অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। অনেক সময় দেখা গেছে করোনা ক্রান্ত ব্যাক্তির শরীরে নিউমোনিয়ার মত উপসর্গ দেখা দিয়েছে । সেক্ষেত্রে,  নিউমোনিয়ার সংক্রমণ আটকাতে ও এই সমস্যার মোকাবিলা করতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ দেওয়া হয় ।

আমেরিকার সাথে ভারতের বাদানুবাদের পর হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে । একথা সত্যি যে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন করোনা আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে অনেক ক্ষেত্রে ভাল সুফল মিলেছে । কিন্তু  ফ্রান্সে মাত্র ৩০ জন রোগীকে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন দিয়ে চিকিৎসা করে ভাল ফল পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু এই নিয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণা হওয়া দরকার।

বিজ্ঞানীরা প্রতি নিয়ত গবেষণা করে চলছেন করোনা নিয়ে । সার্স কোভ-২ করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় এইচআইভিতে ব্যবহৃত কিছু অ্যান্টিভাইরাল ওষুধও ব্যবহার করা হচ্ছে। ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯ থেকে ৮ জানুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত করোনা আক্রান্তদের উপর অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ প্রয়োগ নিয়ে একটা স্টাডি হয়েছে। তবে সে রকম উল্লেখযোগ্য কোনও ফল পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি জয়পুরের একজন চিকিৎসক পরীক্ষামূলক ভাবে দু’-একজন রোগীকে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ইন্ট্রাভেনাস ইমিউনোগ্লোবিউলিন (আইভিআইজি) দেওয়ায় তাঁরা সুস্থ হয়ে উঠেছেন। কিন্তু এর কার্যকারিতা নিয়ে এখনও যথেষ্ট সংশয় আছে।

অপর দিকে করোনা আক্রান্তের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে পরীক্ষা করে দেখা গেছে । সেক্ষেত্রে  সঙ্কটজনক পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রতি দিন ভিটামিন সি, ভিটামিন বি-৬ ও ভিটামিন ই দেওয়া হয়। কিন্তু সব ক্ষেত্রে সাফল্য পাওয়া যায়নি । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে  পুলড প্লাজমা দিয়ে চিকিৎসা করেও উল্লেখযোগ্য ভাল ফল পাওয়া যায়। যাঁরা কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হওয়ার পর সেরে উঠেছেন, তাঁদের শরীরে এই রোগের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। সে রকম ভলেন্টিয়ারের রক্ত থেকে প্লাজমা নিয়ে সার্স কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস আক্রান্তকে দেওয়া হলে রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে ও মৃত্যু ঠেকানো যাবে বলে বিজ্ঞানিরা আশাবাদী। তবে এই চিকিৎসা ব্যাপক ভাবে চালু হতে ৬–৮ মাস বা তারও বেশি সময় লাগবে।

তবে একদিন হয়ত মানুষ আবিষ্কার করে ফেলবে করোনার প্রতিষেধক । কিন্তু এই মুহূর্তে করোনা নিয়ে সচেতন আর সাবধান হওয়া ছাড়া বিকল্প কিছুই নেই । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) পৃথিবীর সব দেশের মানুষকে রোগ আটাকানোর ব্যাপারে সচেতন হতে নির্দেশ দিয়েছে। আমাদের দেশে কোভিড-১৯ আটকাতে আরও ১৫–২০ দিন বা তারও বেশি সময় লকডাউন প্রয়োজন বলে ইন্ডিয়ান সোসাইটি ফর ক্রিটিকাল কেয়ার মনে করে। ইতিমধ্যে অসুখটা ছড়িয়ে পড়েছে বলে ‘হু’-এর সঙ্গে হাত মিলিয়ে ‘ইন্ডিয়ান সোসাইটি ফর ক্রিটিকাল কেয়ার’ (আইএসসিসি) ও ‘আইসিএমআর’ যৌথ ভাবে আর একটি আরও উন্নত মানের চিকিৎসা গাইডলাইন তৈরি করছে। রোগ ছড়ানোর ধরণ দেখে ও ঘনজনবসতির কারণে আমাদের রাজ্যে রোগটি দ্রুত স্টেজ থ্রি-তে পৌঁছে যাওয়ার ঝুঁকি খুব বেশি। তাই রোগ আটকাতে বাড়িতেই থাকুন।

তথ্য সুত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা

আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
মন্তব্য
Loading...