মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে ফোনে যেকোনো পরিস্থিতিতে পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

0

বং দুনিয়া ওয়েব ডেস্কঃ যত কাছাকাছি চলে আসছে সুপার সাইক্লোন আমফান, ততই যেন সকলের হার্টবিট বাড়ছে । করোনা আতঙ্ক ছাপিয়ে এখন আমফান কেমন ধ্বংস লীলা চালাবে এই নিয়েই প্রহর গুনছে দুই বাংলার সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে প্রশাসন । এরই মধ্যে আস্নন দুর্যোগ ঘিরে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকার কিছুটা কাছাকাছি এলেন । মঙ্গলবার ফোনে যেকোন পরিস্থিতিতে পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে ।

কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর মৌসম ভবন এবং রাজ্যের হাওয়া অফিস আলিপুর দপ্তর উভয়েই আসন্ন সুপার সাইক্লোন আমফান নিয়ে চরম সতর্কবার্তা জারি করেছে । ইতি মধ্যে মঙ্গলবার সকাল থেকেই আকাশ মাঝে মাঝে ঢেকে যাচ্ছে কালো মেঘে, ভ্যাঁপসা গরমে ঝাপসা চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে সবাই । বাংলা এবং প্রতিবেশি রাজ্য উড়িষ্যাতে সবচেয়ে বেশি আঘাত হানতে চলেছে আমফান।

গতকাল জরুরী ভিত্তিতে প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৈঠক ডেকেছিলেন যে কোন ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য । কেন্দ্র থেকে রাজ্যকে সব ধরনের সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল । মঙ্গলবার সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সরাসরি ফোন করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আশস্ত করলেন । মমতাকে জানিয়ে দিলেন,  যে কোনও পরিস্থিতিতে রাজ্যের পাশে থাকবে কেন্দ্র।

এই মুহূর্তে সুপার সাইক্লোন যে অবস্থানে রয়েছে, তাতে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রবল আকার ধারন করবে সে । এখনি সমুদ্রে বাতাসের গতিবেগ ২৫০ কিমির বেশি । আবহাওয়াবিদরা আশঙ্কা করছেন আগামী কাল বুধবার বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তে আছড়ে পড়তে পারে আমফান । এদিকে IMD kolkata জানিয়েছে, আগামী ৬ ঘণ্টায় সুপার সাইক্লোন আমফান আগামী ৬ ঘণ্টায় বেশ কিছুটা শক্তি হারাবে, কমবে অতি ভয়াবহতা।

আবহাওয়া দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমফান ক্রমশ উত্তর-উত্তরপূর্বে বঙ্গোপসাগরের উত্তরপশ্চিমে সরে যাবে। পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশের উপকূল দিঘা এবং হাতিয়া দ্বীপের কাছে অর্থাৎ সুন্দরবন এলাকা দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করবে । তবে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের খবর, বুধবারের আগে কোনভাবেই আমফান আছড়ে পড়ছে না ।  প্রশাসন থেকে সব দিক দিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আপদকালীন ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে । রাজ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে  পূর্ব মেদিনীপুর জেলার উপকূলবর্তী অঞ্চলে। স্থানীয়দের সতর্ক করা ছাড়াও ইতিমধ্যে দিঘায় পৌঁছেছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সদস্যরা।

সুপার সাইক্লোন আমফানের স্থলভাগে প্রবেশের সময় গতিবেগ কেমন হতে পারে সে বিষয়ে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবাংলার হাতিয়া দ্বীপ এবং দিঘা উপকুলে আছড়ে পড়ার সময় বাতাসের গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১৭০-১৯০ কিমি । কলকাতায় বাতাসের গতিবেগ সর্বচ্চ ১২০-১৩০ কিমি প্রতি ঘণ্টা হতে পারে ।

আপনি এটাও পছন্দ করতে পারেন
মন্তব্য
Loading...