আপনার জন্য এই গাইডটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে যদি আপনি নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স বানাতে চান, অথবা পুরোনো লাইসেন্সের তথ্য সংশোধন করতে চান। ডিজিটাল ইন্ডিয়া প্রকল্পের পর থেকে প্রায় সব সেবাই অনলাইনে পাওয়া যায়, কিন্তু অনেকের কাছেই সঠিক পদ্ধতিটি জানা থাকে না। এই আর্টিকেলে আমরা ধাপে ধাপে সবকিছু বুঝিয়ে বলছি।
আপনিও যদি ভাবছেন যে ঘর থেকে বের না হয়েই ড্রাইভিং লাইসেন্স সংক্রান্ত কাজ সারবেন, তাহলে এই গাইডটি আপনার জন্যই। সারথি পোর্টাল, ডিজিলকার ও পরিষেবা অ্যাপ—এই তিনটি মাধ্যমেই আপনি প্রায় সব কাজ অনলাইনে করে ফেলতে পারেন। আসুন জেনে নিই কীভাবে।
নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া এখন সম্পূর্ণ অনলাইন। প্রথমে sarathi.parivahan.gov.in-এ গিয়ে ‘নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন’ অপশনটি বাছাই করতে হবে। এর পর একটি ফর্ম পূরণ করতে হবে যেখানে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, ঠিকানা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করতে হবে।
ফর্ম পূরণের পর আপনাকে একটি আবেদন নম্বর দেওয়া হবে। এই নম্বর দিয়ে আপনি পরবর্তী প্রতিটি ধাপ ট্র্যাক করতে পারবেন। তারপর অনলাইনেই এলএলআর (লার্নার্স লাইসেন্স) টেস্টের জন্য স্লট বুকিং করতে হবে। টেস্ট পাস করলে পাবেন একটি টেম্পোরারি এলএলআর, যা ৬ মাসের জন্য বৈধ।
| ডকুমেন্ট | প্রয়োজনীয় তথ্য |
|---|---|
| আধার কার্ড | পরিচয় ও ঠিকানার প্রমাণ হিসাবে বাধ্যতামূলক |
| পাসপোর্ট সাইজ ছবি | সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে ২×২ ইঞ্চি ছবি |
| ঠিকানার প্রমাণ | ভোটার আইডি, পাসপোর্ট বা ইউটিলিটি বিল (যেকোনো একটি) |
| জন্মতারিখের প্রমাণ | জন্ম শংসাপত্র, স্কুল সার্টিফিকেট বা আধার |
| স্বাক্ষর | সাদা কাগজে কালো কালির স্বাক্ষরের স্ক্যান কপি |
ডিজিলকার (DigiLocker) হল ভারত সরকারের একটি ডিজিটাল ডকুমেন্ট স্টোরেজ প্ল্যাটফর্ম। এখানে আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্সের একটি সরকার-প্রত্যয়িত ডিজিটাল কপি সংরক্ষণ করতে পারেন। এই ডিজিটাল কপি শারীরিক কপির মতোই আইনত বৈধ এবং ট্রাফিক পুলিশের চেকিংয়ের সময় দেখানো যাবে।
প্রথমে আপনার ফোনে DigiLocker অ্যাপ ইনস্টল করে আধার নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন। এর পর ‘Issued Documents’ সেকশনে গিয়ে Transport → Driving License সিলেক্ট করুন। আপনার লাইসেন্স নম্বর দিয়ে সার্চ করলে সেটি অ্যাপে যুক্ত হয়ে যাবে। তারপর সেখান থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারেন।
শুধু ডিজিলকার নয়, ‘পরিবহন’ বা ‘mParivahan’ মোবাইল অ্যাপেও আপনি আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখতে ও ডাউনলোড করতে পারবেন। এই অ্যাপে আরও সুবিধা আছে—ট্রাফিক চালানের স্ট্যাটাস চেক, গাড়ির নথি দেখা ও ই-চালান পেমেন্ট করা যায়। আপনার জন্য সুবিধাজনক যে মাধ্যমটি, সেটিই ব্যবহার করতে পারেন।
আবেদন করার পর লাইসেন্সের বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে সারথি পোর্টালে ‘Application Status’ অপশনে ক্লিক করুন। সেখানে আপনার আবেদন নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে লগইন করলেই বর্তমান স্ট্যাটাস দেখা যাবে—আবেদন জমা পড়েছে, নথি যাচাই হচ্ছে, টেস্টের জন্য অপেক্ষমাণ, বা লাইসেন্স প্রস্তুত—প্রতিটি ধাপের তথ্য পাওয়া যাবে।
লাইসেন্স তৈরি হয়ে গেলে সেটি ডাউনলোড করার অপশনও একই পেজে পাওয়া যাবে। এছাড়া SMS-এর মাধ্যমেও স্ট্যাটাস আপডেট পাঠানো হয় আপনার রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে। তাই আবেদনের সময় মোবাইল নম্বর সঠিকভাবে দেওয়া জরুরি।
অনেক সময় ড্রাইভিং লাইসেন্সে নামের বানান, ঠিকানা বা ছবিতে ভুল থেকে যায়। এই ভুল সংশোধন করার জন্যও অনলাইন প্রক্রিয়া রয়েছে। সারথি পোর্টালে ‘Correction in Driving License’ অপশনটি বাছাই করে আবেদন করতে হবে।
ড্রাইভিং লাইসেন্স সংক্রান্ত কাজ এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে সহজ। সরকারের ডিজিটাল ইন্ডিয়া উদ্যোগের ফলে প্রায় সব সেবাই অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে, যার জন্য আর RTO-র লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে না। সারথি পোর্টাল ও ডিজিলকার অ্যাপের মাধ্যমে আপনি নিজের মতো করে, নিজের সময়ে সব কাজ সেরে ফেলতে পারেন।
তবে একটি কথা মনে রাখবেন—অনলাইন আবেদনের সময় সব তথ্য আধারের সঙ্গে হুবহু মিলিয়ে দেওয়া জরুরি। ছোট্ট একটি ভুলও আবেদন বাতিলের কারণ হতে পারে। তাই ফর্ম পূরণের আগে আধারের তথ্য ভালো করে মিলিয়ে নিন।
আরও পড়ুন: আধার কার্ডে নতুন নথির তালিকা ২০২৬ — UIDAI-র আপডেট গাইড
আরও পড়ুন: ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন ২০২৬: অনলাইনে নাম ও ঠিকানা পরিবর্তনের নিয়ম
আপনি যদি আরও বিস্তারিত জানতে চান, তাহলে সারথি পোর্টালের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট-এ গিয়ে সমস্ত তথ্য দেখে নিতে পারেন। এছাড়া ডিজিলকারের অফিসিয়াল সাইট-এ গিয়ে ডিজিটাল ডকুমেন্ট সংক্রান্ত আরও তথ্য পাওয়া যাবে।
This post was last modified on 26th June 2026 2:22 am