পশ্চিমবঙ্গ সরকার মহিলাদের আর্থিক নিরাপত্তা ও উন্নতির জন্য নতুন প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ চালু করেছে। এই প্রকল্পটি আগামী ১ জুন, ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে এবং এর অধীনে রাজ্যের ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী যোগ্য মহিলাদের মাসে ৩,০০০ টাকা সরাসরি তাঁদের আধার-লিংকড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে DBT (ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার) এর মাধ্যমে প্রদান করা হবে। উক্ত প্রকল্পটি পূর্বের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে এবং পরিণামে প্রায় ২ কোটিরও বেশি মহিলাকে উপকৃত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে।
আগের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সমস্ত ২ কোটি সুবিধাভোগী স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন অন্নপূর্ণা যোজনায় স্থানান্তরিত হয়েছেন। তবে যাঁরা নতুন করে আবেদন করতে চান, তাঁদের জন্য ২৭ মে থেকে ২৫ আগস্ট, ২০২৬-এর মধ্যে অনলাইন এবং অফলাইন উভয় মাধ্যমেই আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। এ প্রতিবেদনটিতে আমরা অন্নপূর্ণা যোজনা ২০২৬ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব—যেমন যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় নথি, আবেদন পদ্ধতি, এবং সুবিধা স্থিতি পরীক্ষা করার পদ্ধতি ইত্যাদি।
| প্রকল্পের নাম | অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana) |
| প্রবর্তনকারী | পশ্চিমবঙ্গ সরকার |
| সুবিধার পরিমাণ | মাসিক ৩,০০০ টাকা (DBT-র মাধ্যমে) |
| লক্ষ্য সুবিধাভোগী | মহিলা (বয়স ২৫-৬০ বছর) |
| কার্যকর তারিখ | ১ জুন ২০২৬ |
| আবেদনের পোর্টাল | socialregistry.wb.gov.in |
| আবেদনের সময়সীমা | ২৭ মে – ২৫ আগস্ট ২০২৬ |
অন্নপূর্ণা যোজনা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি বৃহৎ প্রকল্প যা রাজ্যের মহিলাদের আর্থিক সুরক্ষার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য হলো মহিলাদের হাতে সরাসরি নগদ অর্থ প্রদান করে, তাঁদের পরিবার ও সমাজে আর্থিক ভূমিকা আরও সুসংহত করা। নতুন সরকারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি হিসেবে এই প্রকল্পটির বাস্তবায়ন সম্পন্ন হয়েছে।
অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদন করার জন্য কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতার প্রয়োজন রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী মহিলা বাসিন্দাদের মধ্যে যাঁদের বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, তাঁরা এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে, যাঁরা আয়কর প্রদান করেন, স্থায়ী সরকারি চাকরিজীবী বা সরকারি পেনশনার, তাঁদের এই প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।
| শর্ত | বিবরণ |
|---|---|
| লিঙ্গ | শুধুমাত্র মহিলা |
| বয়সসীমা | ২৫ থেকে ৬০ বছর |
| আবাসন | পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা |
| আয়কর | আয়কর প্রদানকারীরা অযোগ্য |
| চাকরি | স্থায়ী সরকারি চাকরিজীবী/পেনশনপ্রাপক অযোগ্য |
অফলাইন আবেদনের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্লক অফিস, পুরসভা বা পঞ্চায়েত অফিস থেকে ফর্ম সংগ্রহ করতে হবে। ফর্মটি পূরণ করে প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত করে জমা দিতে হবে। এছাড়া রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ১৫-১৭ জুন জুড়ে “জনকল্যাণ শিবির”-এর আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে সরাসরি গিয়ে আবেদন করা যাবে। বাংলা ভাষায় আবেদন ফর্ম ডাউনলোডের লিংক সরকারি পোর্টালে দেওয়া আছে।
আবেদন জমা দেওয়ার পর অনলাইন পোর্টালে “Track Application” অপশনে গিয়ে আবেদন রেফারেন্স নম্বর দিয়ে স্থিতি জানা যাবে। এছাড়া ব্লক অফিস বা পুরসভা থেকেও স্থিতি জানা সম্ভব। সুবিধাভোগী নির্বাচিত হলে “Approved” স্থিতি দেখাবে এবং নির্ধারিত তারিখে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়বে। কোনো কারণে আবেদন বাতিল হলে “Rejected” স্থিতি দেখাবে এবং পুনরায় সঠিক নথি নিয়ে আবেদন করতে হবে।
অন্নপূর্ণা যোজনার আওতাধীন নির্বাচিত সুবিধাভোগীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৩,০০০ টাকা স্থানান্তরিত হবে। এই অর্থ প্রতি মাসের নির্ধারিত তারিখে সরাসরি লাভ Direct Benefit Transfer (DBT) – এর মাধ্যমে পাঠানো হবে। সুবিধাভোগীদের আধার কার্ডটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে সংযুক্ত থাকা অপরিহার্য। যদি কোনো কারণে অ্যাকাউন্ট যাচাই করতে ব্যর্থ হয়, “ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অকার্যকর” এই ধরনের একটি অবস্থার সম্পর্কে জানানো হবে এবং প্রাসঙ্গিক ব্লক অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হবে।
পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য সরকারি প্রকল্পগুলোর মতো, অন্নপূর্ণা যোজনা মহিলাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে পরিচিত। এর আগেও রাজ্যে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের মাধ্যমে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য বিমা এবং কন্যাশ্রী প্রকল্পের সুফল জনগণের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। মেয়েদের শিক্ষার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদানে বিভিন্ন প্রকল্প চালু রয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার মতো পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্নপূর্ণা যোজনা এই ধারাবাহিকতায় একটি নতুন ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সহ আবেদন করলে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে। সুবিধাগুলি সহজেই প্রাপ্য। তাই আর দেরি না করে আজই আবেদন করুন এবং মাসে ৩,০০০ টাকার আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করুন।
This post was last modified on 10th June 2026 11:45 am