সময়ের সাথে হাত মিলিয়ে

জগদ্দলের পর কাকিনাড়া – বোমাবাজি অব্যাহত

ভাটপাড়া, জগদ্দল, কাকিনাড়া- কোথাও শান্তি নেই । সরকার ১৪৪ ধারা চালু করেছে সেখানে । বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে জরুরি ইন্টারনেট পরিষেবা । তবুও সেখানে শান্তি ফেরানোর জন্য কোন পদক্ষেপ কাজ করছে না । গতকাল জগদ্দলে নতুন থানা উদ্বোধন করার কথা ছিল । পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সেখানে পৌঁছাতে পারেননি । পৌঁছানোর আগেই গন্ডগোলের সংবাদ শুনে গাড়ি ঘুরিয়ে নিয়েছেন তারা । গন্ডগোলের জেরে ব্যাপক বোমাবাজি গোলাগুলি চলে এবং এর ফলে মৃত্যু হয়েছে দুজনের । মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে আরো পাঁচজন ।

এক দল আরেক দলকে দোষে, কিন্তু সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আজ বড় প্রশ্নের মুখে । গতকাল গন্ডগোল হওয়ার পরে আজ আবারো কাকিনাড়ার রাস্তা ঘাট কেঁপে উঠলো দুষ্কৃতীদের বোমাবাজিতে । গতকালই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ঘোষণা করেছিলেন আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যেকোন উপায়ে হোক ব্যারাকপুরে শান্তি ফেরাতে হবে । কিন্তু মুখের কথাই সার । প্রশাসন চেষ্টা করেও কিছু করতে পারছে না । উদ্বিগ্ন হয়ে রাজ্যপাল কেশরী নাথ ত্রিপাঠী বলেছেন ‘যাতে শান্তি ফিরে আসে তা সকলের দেখা উচিত – প্রশাসন, রাজ্যের মানুষ সকলের’ ।

পর্যবেক্ষকদের মতে কাকিনারা, ভাটপাড়া জগদ্দল এখন যে অবস্থায় এসে পৌঁছেছে সেখানে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কায়েম করা মুশকিল ।রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসনের শাসন কায়েম করতে হলে প্রশাসন এবং রাজনৈতিক দলকে সমান্তরালভাবে কাজ করতে হয় । কিন্তু এতদিন শাসক দলের যে নেতাদের হাতে এই এলাকার দায়িত্ব ছিল, তারা সেটা আর পালন করতে পারছে না বিজেপির দাপটে । সুতরাং প্রশাসনকে ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে বসে থাকা ছাড়া কিছুই করার নেই । আজ ভাটপাড়া বা তার আশেপাশে এলাকায় যে ঘটনা ঘটছে, তাতে দেখা যাচ্ছে একটা বিশেষ শ্রেণীর মানুষ প্রায় প্রতিদিনই আস্তে আস্তে এলাকা ছেড়ে গঙ্গা পেরিয়ে হুগলি এলাকায় বসবাস স্থাপন করছে । এটা যথেষ্ট ভয়ের কারণ ।

এখন সকলের মনে একটাই প্রশ্ন, যে সমস্ত খেটে খাওয়া সাধারন মানুষ কোন রাজনৈতিক দলের ধার ধারেন না, তারা আর কতদিন এই অশান্তির মধ্যে জীবন যাপন করবেন ? কবে স্বাভাবিক হবে তাদের এই জনজীবন ?

মন্তব্য
Loading...