প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজস্ব প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নতুন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ কাস্টমসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্যবদ্ধভাবে প্রয়াস চালালে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধসহ রাজস্ব প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে বলে তিনি মনে করেন।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পেশাগত দক্ষতা, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা ও লজিস্টিক সংস্কার বাস্তবায়নের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধি, শক্তিশালী অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে তোলা, অবৈধ বাণিজ্য রোধ, চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন রোধ, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ। রাজস্ব প্রশাসনে দুর্নীতি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) ‘আন্তর্জাতিক শুল্ক দিবস ২০২৪’ উপলক্ষে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ কাস্টমসের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও স্টেকহোল্ডারদের উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান। এবারের দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ‘মিলে নবীন-অশ্লীল আঁশিজন, কাস্টমস লক্ষ্য অর্জন করবে’- এটা সময়োপযোগী বলে মনে করেন তারা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই শিল্প-কারখানা জাতীয়করণ করে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছিলেন। দেশীয় সম্পদ সংগ্রহের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করার পাশাপাশি স্বনির্ভরতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন। ফলে দেশে বহুমাত্রিক রাজস্ব উৎপাদন খাত সৃষ্টি হয় এবং সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। 1972 সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল US$91। বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে তিন বছরে তা বাড়িয়ে ২৭৭ মার্কিন ডলার করেন। জাতির পিতার আমলে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ শতাংশের বেশি।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র ব্যবস্থা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে আওয়ামী লীগ ২০০৯ সাল থেকে একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্ব অর্থনীতির এই সংকটময় মুহূর্তেও আমাদের সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সফল হয়েছে। আমরা পদ্মা সেতু, বঙ্গবন্ধু টানেলের স্বপ্ন জয় করেছি, দেশ মেট্রোরেল যুগে প্রবেশ করেছে।
তিনি বলেন, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল ও গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র, পেরা গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের কাজ শিগগিরই শেষ হবে, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে স্মার্ট বাংলাদেশের দিকে।’ এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের অক্সিজেন হচ্ছে রাজস্ব। বাংলাদেশ কাস্টমস সুষ্ঠুভাবে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে আধুনিক আর্থিক নীতি, ডিজিটাল শুল্ক সেবা, উন্নত তথ্য গুদাম তৈরি, ওয়ান স্টপ সার্ভিসের ব্যবস্থা, আস্থা গড়ে তোলা এবং স্টেকহোল্ডারদের সাথে সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব সহ ভাল পেশাদারিত্বের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে রাজস্ব বাহিনীর প্রচেষ্টার প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এসব কার্যক্রম অব্যাহত রেখে আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়ন এবং একটি স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য রাখি।’ প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক শুল্ক দিবস 2024-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।